মধ্যস্থ

INFP ব্যক্তিত্ব

মধ্যস্থতাকারীরা কাব্যিক, সদয় এবং পরোপকারী মানুষ, সর্বদা একটি ভাল কারণকে সাহায্য করতে আগ্রহী।

মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিত্ব প্রকার (INFP) চিত্রিত একটি দৃশ্য। একজন মহিলা মধ্যস্থতাকারী একটি গাছের গুঁড়ির সাথে পিঠ লাগিয়ে বসে একটি নোটবুকে লিখছেন। একটি নম্র হরিণ তার দিকে এগিয়ে আসছে এবং তিনি ঘাস ও মাটি থেকে উদগত ফুলের চারা দ্বারা পরিবেষ্টিত। পটভূমিতে ত্রিকোণাকার পাইন গাছের জঙ্গল এবং পূর্ণিমার চাঁদসহ আকাশ রয়েছে। ঘাসে ঢাকা পরিবেশে জ্যামিতিক পাথর ও বড় শিলাখণ্ড ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যা মধ্যস্থতাকারীর সৃজনশীল ও আদর্শবাদী প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটায় কল্পনাপ্রবণ পরিবেশে আরও মাত্রা যোগ করেছে।
I অন্তর্মুখী N স্বজ্ঞাত F অনুভূতিপ্রবণ P অনুসন্ধানী

মধ্যস্থ

নিরব, মৃদু স্বভাবে দেখা গেলেও, INFP ব্যক্তিত্বধারী (মধ্যস্থ) মানুষদের মনে রয়েছে উচ্ছল, আবেগময় এক জগৎ। সৃজনশীল ও কল্পনাপ্রবণ, তারা দিবাস্বপ্নে হারিয়ে যেতে ভালোবাসে, নানা গল্প আর আলাপচারিতার জাল বুনে তাদের মনে। INFP-রা খুবই সংবেদনশীল—সংগীত, শিল্প, প্রকৃতি, এবং আশেপাশের মানুষদের সঙ্গে তারা গভীর আবেগীয় সংযোগ অনুভব করতে পারে। অত্যন্ত স্মৃতিকাতর ও স্মৃতিবাহক এই মানুষরা জীবনের ছোট্ট ছোট্ট আনন্দদায়ক উপাদান ও স্মৃতিচিহ্নও যত্নে জমিয়ে রাখে।

আদর্শবাদী ও সহানুভূতিশীল, INFP ব্যক্তিত্বের মানুষরা গভীর, হৃদয়গ্রাহী সম্পর্কের আকাঙ্ক্ষা করে এবং অন্যদের সহায়তায় নিজেদের উৎসর্গ করতে চায়। এই দ্রুতগতি ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ সমাজে তারা মাঝে মাঝে একাকী বা অন্তর্হিত বোধ করতে পারে, যেন তারা নিজেদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের জন্য যথেষ্ট স্বীকৃতি পাচ্ছে না। অথচ অত্যন্ত সংবেদনশীলতা আর গভীর সৃজনশীলতাই INFP-দের অভিনব উপায়ে বিশ্বকে বোঝা ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা দেয়।

“সব সোনাই ঝকঝকে নয়; যে সকল পথিক পথ হারায়, তারা সবাই আসলে হারায় না; যে বৃক্ষ বয়সে দৃঢ়, তা সহজে নুইয়ে পড়ে না; গভীর মূলকে কোনো শীতের তুষার ছুঁতে পারে না।”

জে. আর. আর. টোলকিয়েন
INFP ব্যক্তিত্ব (মধ্যস্থ)

সহমর্মিতার উপহার

INFP-রা মানব মনের গভীরে এক আন্তরিক কৌতূহল বোধ করে। তারা ভিতর থেকে ভীষণ আত্মমুখী, নিজেদের চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত, আবার আশেপাশের মানুষদেরও বোঝার জন্য উৎসুক। INFP-রা সহানুভূতিশীল এবং কারো গল্প শোনার সময় কোনো রকম মূল্যায়ন না করেই শুনতে পারে। যখন কেউ তাদের সামনে মনের কথা খুলে বলে বা সহায়তা চায়, তারা সম্মান ও কৃতজ্ঞতা বোধ করে।

সহমর্মিতা হলো INFP ব্যক্তিত্বের বড় শক্তিগুলোর একটি, তবে এটি কোনো কোনো সময়ে তাদের দুর্বলতাও হয়ে ওঠে। চারপাশের অগুনতি অন্যায় আর মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখে তারা গভীরভাবে ব্যথিত হয়, আর তাদেরকে যদি সীমানা টেনে সুরক্ষিত থাকতে শেখানো না যায়, তবে তারা হয়তো ক্লান্তি বা হতাশায় আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে।

নিজের সত্যকে তুলে ধরা

INFP ব্যক্তিত্বের মানুষদের পক্ষে নিজেকে প্রতারণা করা খুবই কঠিন। সৎ ও স্বকীয় হওয়াটা তাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সেজন্য তারা অন্যদের মতো স্রেফ “ফিট ইন” করার জন্য ছদ্মবেশ ধারণ করতে পারে না। অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মূল্যবোধনির্ভর হওয়ায় তারা গভীরভাবে চায় জীবনের অর্থ ও উদ্দেশ্যকে খুঁজে পেতে, স্বপ্নের দুনিয়ায় নানান গল্প, ধারণা ও সম্ভাবনার জাল বুনে। তাই এটি অবাক হওয়ার কিছু নয় যে অনেক বিখ্যাত কবি, লেখক, অভিনেতা ও শিল্পী INFP ছিলেন বা আছেন।

স্বপ্রকাশের অসামান্য ক্ষমতা INFP-দের অন্যতম বড়ো সম্পদ। উপমা ও কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে তারা অন্তর্নিহিত ভাবনা ও গোপন অনুভূতিকে ফুটিয়ে তুলতে পারে।

নিজেদের কল্পিত জগতের মধ্য দিয়ে তারা যেমন আত্ম-অনুসন্ধান করে, তেমনি চেষ্টা করে জীবনের বৃহত্তর অর্থ খুঁজে পেতে। এটা নিঃসন্দেহে এক অপূর্ব গুণ, তবে মাঝে মাঝে তাদের স্বপ্ন দেখা ও কল্পনার রাজ্যে ডুবে থাকা বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণকে বিলম্বিত করে। ফলে মাঝে মাঝে INFP ব্যক্তিত্বের মানুষরা এত বেশি ভাবনার মধ্যে সময় পার করে দেয় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নিজেদের সম্ভাবনার প্রতি আস্থা বজায় রাখতে এবং অকার্যকরতার অনুভূতিকে দূরে রাখতে তাদের প্রয়োজন লক্ষ্যনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া।

জীবনের ডাক খোঁজায়

এই ব্যক্তিত্বদের মনে প্রায়ই দিশাহীনতা বা স্থবিরতার বোধ দেখা দেয়, যতক্ষণ না তারা জীবনের আসল উদ্দেশ্যের সন্ধান পায়। অনেকের ক্ষেত্রেই এই উদ্দেশ্য অন্যদের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। তবে INFP-দের মনে রাখতে হবে, সবাইকে একসাথে সাহায্য করতে গিয়ে তারা যেন নিজেই ভেঙে না পড়ে। অর্থাৎ তাদের উচিৎ জীবনীশক্তি ও সম্পদের বাস্তবিক সীমা বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়া।

সৌভাগ্যক্রমে, বসন্তকালের ফুলের মতো, INFP-দের সৃষ্টিশীলতা ও আদর্শবাদ অন্ধকারতম সময় পেরিয়েও আবার ফুটে উঠতে পারে। তারা জানে পৃথিবী কখনো নিখুঁত হবে না, তবু তারা প্রতিনিয়ত সেটা আরো ভালো করার চেষ্টা চালিয়ে যায়। এই নিরব বিশ্বাস যে সঠিক কাজটি করতেই হবে—শান্ত, দয়ালু ও ইতিবাচক মনোভাব ছড়াতে পারাই—এমন একটা কারণ যেজন্য INFP ব্যক্তিত্ব যেখানেই যায় সেখানেই সহমর্মিতা, মমতা আর সৌন্দর্যের ছাপ ফেলে।