পক্ষসমর্থক
“মানুষকে তার যে রূপ হওয়া উচিত, সে ভাবেই আচরণ করো, আর তুমি তাকে সেই রূপে পরিণত হতে সহায়তা করবে।”
আদর্শবাদী ও নীতিনিষ্ঠ, INFJ ব্যক্তিত্বধারী (পক্ষসমর্থক) মানুষরা সাধারণভাবে জীবন পার করতে চায় না—তারা দাঁড়াতে চায় এবং ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে চায়। এই সহমর্মী ব্যক্তিত্বদের কাছে সাফল্য মানে অর্থ বা সামাজিক মর্যাদা নয়; বরং নিজেদের পরিতৃপ্তি, অন্যদের সহায়তা, এবং সমাজে ভালো কিছু করার মধ্যে তারা প্রকৃত সার্থকতা খোঁজে।
যদিও তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য ও অভিলাষ রয়েছে, INFJ-দের নিছক স্বপ্নবিলাসী ভাবা উচিত নয়। এই ব্যক্তিত্বের মানুষেরা সততার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্ব দেয় এবং যতক্ষণ না তারা জানে যে সঠিক কাজটি করেছে ততক্ষণ তারা সন্তুষ্ট হয় না। অত্যন্ত বিবেকবান হওয়ার কারণে, তারা জীবনে নিজেদের মূল্যবোধগুলো স্পষ্টভাবে ধরে রেখে চলে, এবং তারা যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা কখনও দৃষ্টির বাইরে যেতে দেয় না – অন্যরা বা বৃহত্তর সমাজ নয়, বরং নিজেদের প্রজ্ঞা ও স্বজ্ঞাত অনুযায়ী।
উদ্দেশ্যের সন্ধানে
সম্ভবত তাদের ব্যতিক্রমী স্বভাবের কারণেই INFJ-রা মনে মনে একটা ধারণা পুষে রাখে—তারা যেন প্রায়শই অন্যদের থেকে আলাদা। গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও জীবনের লক্ষ্য খোঁজার বাসনা নিয়েই তারা চলে। এর অর্থ এই নয় যে INFJ-রা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন বা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারে না—তবে তারা অনেক সময় মনে করে, আশেপাশের মানুষ তাদের পর্যাপ্ত বুঝতে পারছে না কিংবা তাদের সঙ্গে সমাজের মূলধারা মেলে না।
সৌভাগ্যবশত, অন্যের চেয়ে ভিন্ন মনে হওয়ার এই অনুভূতি তাদের “ভালো কিছু” করার ইচ্ছাকে কমায় না। এই ব্যক্তিত্বের মানুষেরা অন্যায্যতায় অস্থির হয় এবং ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে তারা সাধারণত পরোপকারকে বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা সৃজনশীলতা, কল্পনাশক্তি আর সংবেদনশীলতার মাধ্যমে অন্যদের সহযোগিতার পথ খোঁজে, সদয়তা ছড়িয়ে দিতে চায়।
অনেক INFJ বিশ্বাস করে, অন্যদের সাহায্য করা তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য। তারা প্রায়ই চেষ্টা করে সমাজের গভীরে থাকা অন্যায় ও সমস্যা সমাধান করার, এ আশায় যে অন্যায় ও দুঃখ-কষ্ট একদিন সম্পূর্ণ অতীত হয়ে যাবে। তবে কখনো কখনো তারা তাদের আদর্শের পেছনে এতটাই নিবিষ্ট হয়ে পড়ে যে নিজেদের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া হয় না—যার পরিণতিতে তারা মানসিক চাপে ভুগতে বা ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে।
অন্যদের (এবং নিজের) সঙ্গে সংযোগ
INFJ ব্যক্তিত্বের মানুষরা গভীর, আন্তরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। অন্য কারো পুরোপুরি পরিচয় জানা এবং নিজেরটা প্রকাশ করতে পারা—এই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে অত্যন্ত আনন্দদায়ক। তারা ছোটখাটো আলাপের চেয়ে অর্থবহ কথোপকথনে বেশি স্বচ্ছন্দ, আর তারা সাধারণত উষ্ণ, সংবেদনশীলভাবে যোগাযোগ করে। তাদের এই আবেগী আন্তরিকতা ও অন্তর্দৃষ্টি আশেপাশের মানুষের ওপর গভীর ছাপ ফেলে।
চিন্তাশীল এবং প্রায়ই নিঃস্বার্থ INFJ ব্যক্তিত্বের মানুষরা তাদের সম্পর্কগুলোতে প্রচুর সময় ও যত্ন ঢালে, তবে সেটার অর্থ এই নয় যে তারা সবসময় সমতুল্য স্বীকৃতি পায়। কোনো কাজ করার আগে তারা কীভাবে অন্যের ওপর প্রভাব ফেলবে, তা ভেবে দেখতে বেশ সময় ব্যয় করে। তাই অন্যরা তাদের সদিচ্ছা বুঝতে না পারলে বা তেমনভাবে মূল্যায়ন না করলে, তা তাদের বেশ হতাশ করতে পারে। তারা সমালোচনাও খুব ব্যক্তিগতভাবে নেয়, কারণ অনুভূতিগুলো তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যক্তিগত মিশন
অনেক INFJ ব্যক্তিত্বের দৃঢ় বিশ্বাস যে এই পৃথিবীতে তাদের একটা বিশেষ লক্ষ্য রয়েছে—একটা মিশন, যার জন্য তারা যেন জন্ম থেকেই নিয়োজিত। তাদের জীবনে অন্যতম আনন্দের বিষয় হলো এই লক্ষ্যের সন্ধান, এবং একবার পেয়ে গেলে, সেই উদ্দেশ্য সার্থক করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করে।
যখন INFJ-রা অন্যায় বা অসমতার মুখোমুখি হয়, তখন তারা সচরাচর হাল ছেড়ে দেয় না—বরং তারা তাদের অন্তর্দৃষ্টি আর সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে সমাধান খোঁজে। হৃদয় ও মস্তিষ্কের ভারসাম্য রক্ষার স্বাভাবিক ক্ষমতা নিয়ে, এই উৎসর্গীকৃত ব্যক্তিত্বরা বিশাল কিংবা ক্ষুদ্র যাই হোক না কেন, পৃথিবীর ভুলগুলোকে সঠিক করতে সদা প্রস্তুত। এই ব্যক্তিত্বদের শুধু মনে রাখতে হবে যে অন্যদের দেখাশোনা করতে গিয়ে, মাঝে মাঝে থেমে নিজেদের যত্নও নেওয়া দরকার।